Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

শেয়ালদাহর রাতের ট্রেন

 গল্পের নাম: "শেয়ালদাহর রাতের ট্রেন"

রাত তখন ২টা। কলকাতার শেয়ালদাহ স্টেশন একেবারে ফাঁকা। অল্প কয়েকজন ঘুমন্ত হকার আর কুকুরের ডাক ছাড়া কোনো শব্দ নেই। রাকেশ, এক তরুণ সাংবাদিক, একা প্ল্যাটফর্মে বসে আছে। সে পুরোনো পরিত্যক্ত ট্রেন নিয়ে একটি রিপোর্ট করতে এসেছে।

ট্রেনটি ৫০ বছর ধরে পরিত্যক্ত। বলা হয়, এই ট্রেনে চেপে শেষবার যারা গিয়েছিল, তারা আর ফেরেনি। শহরের মানুষ বিশ্বাস করে, ট্রেনটি অভিশপ্ত!

রাকেশ এসব ভূতের গল্পে বিশ্বাস করে না। সে ট্রেনের দিকে এগিয়ে যায়, মোবাইলের টর্চ জ্বালায়। ট্রেনের ভেতরে ঢুকে দেখে—সিটগুলো ধুলো জমে নষ্ট হয়ে গেছে, জানালার কাঁচ ভাঙা, আর সবকিছু থমথমে।

হঠাৎ পেছন থেকে খিলখিল হাসির শব্দ!

সে দ্রুত ঘুরে তাকায়। কেউ নেই!

হাতের ক্যামেরা অন করে সে ভিডিও করতে থাকে। আচমকা ট্রেনের দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়!

একটা ঠান্ডা বাতাস তার ঘাড়ে বয়ে যায়। আর ঠিক তখনই...

একটা হাত তার কাঁধে!

রাকেশ চিৎকার করে উঠে, কিন্তু শব্দ বের হয় না!

তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি ছায়ামূর্তি, যার চোখ নেই, শুধু শূন্যতা!

পরদিন সকালে স্টেশনের কর্মীরা ট্রেনের দরজা খোলা দেখতে পায়। ভেতরে যায়, কিন্তু রাকেশের কোনো চিহ্ন নেই।

শুধু পড়ে আছে তার ক্যামেরা, যেখানে শেষ রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়...

"ওরা আসছে!"








শেয়ালদাহর রাতের ট্রেন (পরবর্তী অংশ)

শেয়ালদাহ স্টেশনে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। স্টেশনের কিছু কর্মী ট্রেনের ভেতর রাকেশকে খুঁজতে থাকে, কিন্তু তার কোনো চিহ্ন নেই। শুধু পড়ে আছে তার ক্যামেরা, যার শেষ রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়—

"ওরা আসছে!"

স্টেশনের সুপারভাইজার অরূপ বাবু ক্যামেরাটা হাতে তুলে নিলেন। কৌতূহল নিয়ে তিনি ভিডিও চালালেন।

ভিডিওর প্রথম অংশে দেখা গেল, রাকেশ ধীরে ধীরে ট্রেনের ভেতরে ঢুকছে, চারপাশে তাকাচ্ছে, পুরনো সিট আর ভাঙা জানালাগুলো রেকর্ড করছে। হঠাৎই ক্যামেরার ফ্রেম কেঁপে উঠল!

একটা বিকট আওয়াজ… যেন ধাতব কিছুতে কেউ আঘাত করছে!

ভিডিওর পরের অংশে দেখা গেল, রাকেশ হঠাৎই থমকে গেছে। অন্ধকারের মধ্যে, ক্যামেরার আলোয় দেখা গেল, ট্রেনের এক কোণে কেউ বসে আছে!

একটা নারী অবয়ব… মাথা নিচু… চুল এলোমেলো…

হঠাৎ মাথাটা ধীরে ধীরে উঠে গেল।

তাঁর চোখ নেই! শুধু দুইটা শূন্য কালো গহ্বর!

আর তারপরই রাকেশ চিৎকার দিয়ে পড়ে গেল, ক্যামেরা মাটিতে পড়ে গিয়ে কাঁপতে লাগলো।

ভিডিওর শেষ দৃশ্যে দেখা গেল, ট্রেনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনেকগুলো ছায়ামূর্তি!

তারপর ভিডিও বন্ধ হয়ে গেল।

অরূপ বাবুর শরীরে শীতল স্রোত বয়ে গেল।

তিনি তাড়াতাড়ি স্টেশন মাস্টারকে খবর দিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল—ক্যামেরার স্ক্রিন হঠাৎই ঝাঁকুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেল।

আর তখনই…

ট্রেনের ভেতর থেকে ভেসে এলো এক নারীর চাপা গলার হাসি!

"ওরা আসেনি... আমরা তো এখানেই ছিলাম!"

স্টেশনের বাতি তখনই টিম টিম করে জ্বলে উঠল…




Post a Comment

0 Comments